জানা অজানা

এন্ড্রয়েড ও আইওএস অপারেটিং সিস্টেম – মোবাইল প্রযুক্তির প্রাণ

মোবাইল টেকনোলজিতে ব্যবহৃত বর্তমানে সেরা দুটি অপারেটিং সিস্টেম; গুগল এর এন্ড্রয়েড এবং অ্যাপলের iOS।আমরা এগুলোকে সাধারনত স্মার্টফোন থেকে শুরু করে; সকল প্রকার ট্যাবলেট ও এরকম ডিভাইসে দেখতে পাই।

এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম যা মূলত ডেভেলপ করেছে গুগল ; সর্বপ্রথম প্রকাশ পায় ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সালে। অ্যাপল নির্মিত আইওএস রিলিজ(জুলাই ২৯,২০০৭) এর প্রায় ১ বছর পর।এন্ড্রয়েড মূলত লিনাক্স ভিত্তিক একটি অপারেটিং সিস্টেম। লিনাক্সকে ভিত্তি করে এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমকে; গুগল ডিজাইন করেছে মোবাইল টেকনোলোজি এর জন্য। এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম প্রথম প্রথম ছিল অনেকটা আইওএস এর মতন ; এখনও রয়েছে তবে বর্তমানে এন্ড্রয়েড তাদের নিজেদের কিছু বিশেষত্ব আনছে। তবে মানতে হবে এন্ড্রয়েড আইওএস এর থেকে প্রথমথেকে অনেক আইডিয়া নিয়েছে। আইওএস এর তুলনায় এন্ড্রয়েড এর বেসিক ফিচারগুলো ; উপর থেকে নিচ পর্যন্ত আরো বেশি কাস্টমাইজেবল বা পরিবর্তনীয়।তাছাড়াও iOS আইওএস এর নকশা উপাদানগুলি অনেক সময় আরো বেশি ব্যবহারকারী-বন্ধুত্বপূর্ন হিসেবে দেখা যায়।

তাই এন্ড্রয়েড ও আইওএস বাছাই এর ক্ষেত্রে আপনাকে অনেক জিনিস মাথায় রাখতে হবে ; বাইর থেকে অনেক কিছু এক মনে হলেও ভিতরে অনেক ঘাপলা আছে! আইওএস থেকে এন্ড্রয়েডে বা এন্ড্রয়েড থেকে আইওএস এ যাওয়ার আগে অনেক চিন্তাভাবনা করে নিতে হবে। কেননা আপনাকে এমন অনেক অ্যাপ কিনতে হতে পারে যেটি কিনা অন্য অপারেটিং সিস্টেমটিতে ফ্রী ছিল।এন্ড্রয়েড হল বর্তমানে সাধারনভাবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম ; বহু কোম্পানি তাদের ডিভাইস এ এটি ব্যবহার করে ; যেখানে আইওএস ব্যবহার করা হয় কেবলমাত্র অ্যাপল এর বানানো ডিভাইসগুলিতে। যেমন : আইফোন, আইপ্যাড।

এই আর্টিকেলটিতে এন্ড্রয়েড ও আইওএস অপারেটিং সম্পর্কে ;প্রাথমিক ধারনা এবং কিছু পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। নিচে এ সম্পর্কিত ৪ টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হল :

প্রাপ্যতা :

এন্ড্রয়েড হল একটি উন্মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম, যেকেউ এটি ব্যবহার করতে পারে। অন্যদিকে আইওএস অ্যাপেল ছাড়া আর কারও ব্যবহার করার অনুমতি নেই। বিভিন্ন প্রধান নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান যেমন : মটোরোলা,স্যামসাং,এলজি,সনি তাদের স্মার্টফোন,ট্যাবলেট এরকম ডিভাইস গুলোতে এন্ড্রয়েড ব্যবহার করে।অ্যামাজন এর কিন্ডেল ফায়ারও এন্ড্রয়েড এর বিশেষ মডিফাইড ভার্সন! গুগল এর নেক্সাস লাইন অফ ফোনগুলি পিওর এন্ড্রয়েড ; বলতে এন্ড্রয়েড এর আসল স্বাদ-গন্ধ পেতে নেক্সাস ব্যবহার করতে হবে ; তবে বর্তমানে গুগল এর পিক্সেল লাইন অফ ডিভাইসগুলিও পিউর এন্ড্রয়েড গ্রুপ এর ভেতর পরে। মানে নেক্সাস আর পিক্সেল ভাই ভাই।
অন্যদিকে বেচারা আইওএস কেবল আইপড টাচ, আইফোন, আইপ্যাড এবং অ্যাপল টিভিতে উপলব্ধ। অ্যাপল এর গন্ডী পেড়োবার তার কোন অনুমতি নেই। অ্যাপল তাকে যেখানে বলবে ; আইওএস সেখানেই সান্ধায় যাবে আর তার কারিশমা দেখাবে।

ফাইল ট্রান্সফারিং :

আইওএস এ ফাইল ট্রান্সফারিং একটু সংকটপূর্ন ; ঠকঠকিয়া ( বাংলা সমার্থক ?)। মিডিয়া ফাইল শেয়ারিং এর জন্য আইটিউনস এর পিসি অ্যাপলিকেশন ব্যবহার করতে হয়। তবে ছবি সহজেই ইউএসবি এর মাধ্যমে শেয়ারিং করা যায় এতে কোন বিশেষায়িত অ্যাপ লাগে না।
অন্যদিকে এন্ড্রয়েড এ কাজটি অনেকটা সহজ। ইউএসবি দিয়ে সবকিছু শেয়ার করা যায় ; মিডিয়া, অ্যাপস, ছবিসব সবকিছু ; ভাইরাস ও ?।

অ্যাপলিকেশন স্টোর ও অ্যাপলিকেশন ডাউনলোড :

এক্ষেত্রে গুগল এন্ড্রয়েড এর জন্য মূল যে অ্যাপ স্টোর সেটি হল গুগল প্লেস্টোর। তারপরও অ্যামাজন অ্যাপস্টোর, এপিকেমিরর ইত্যাদি ৩য় পক্ষ সাইট থেকে যেকোন অ্যাপলিকেশন ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে অ্যাপেল ৩য় পক্ষের কোন অ্যাপলিকেশন ইন্সটল ও ব্যবহার করার অনুমতি দেয়না ;কেবল অ্যাপেল অ্যাপস্টোর থেকে ডাউনলোড করা অ্যাপই আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। গুগল প্লেস্টোর এ প্রায় ১০ লাখের বেশি অ্যাপ বিদ্যমান। অ্যাপেল অ্যাপস্টোরেও এই সংখ্যাটি প্রায় একই।

ফাইল ম্যানেজার :

উইন্ডোজ এর মত এন্ড্রয়েডেও একটি ফাইল ম্যানেজার থাকে ; যার মাধ্যমে আপনি আপনার মেমরিতে থাকা ফাইল এর ব্যবস্হাপনা করতে পারেন। তবে আইওএসএ কোন ফাইল ম্যানেজার নেই।

নিরাপত্তা :

নিরাপত্তার দিক থেকে বলতে গেলে এন্ড্রয়েড পিছিয়ে আছে; কেননা এন্ড্রয়েড পারমিশন দেয় যেকোন কিছু থেকে ডাউনলোড করার যেকোন জায়গা থেকে। এখনযদি কেউ না জেনে ম্যালওয়্যার ডাউনলোড করে সে দায়িত্বতো আর এন্ড্রয়েড নিবেনা। তাই এক্ষেত্রে একটু সতর্ক হতে হবে। আর এন্ড্রয়েড সহজেই রুট করা যায় ; এটি না করাই ভালো (প্লাস্টিক এর তালা খুলে না রাখাই ভালো ; যতটুকু সুরক্ষা দিচ্ছে দিক) ।আপনি যদি একান্ত বড় লেভেল এর ডেভেলপার না হন বা কাস্টম রম দিতে না চান তাহলে রুট করার দরকার নেই। তবে শীঘ্রই পিক্সেল ও নেক্সাস ডিভাইস এর জন্য এন্ড্রয়েড এর সফটওয়্যার সিকিউরিটি প্যাচ উন্মুক্ত হবে।

এদিক থেকে আইওএস অনেককাংশে এগিয়ে। সাধারনত আইওএস ব্যবহারকারীদের ম্যালওয়্যার বা এ সম্পর্কিত কোন অভিযোগ নেই।


© আইটি কথন কনটেনট কাউন্সিল  

 

লেখক সম্পর্কে

তৌহিদুর রহমান

যা তোমার ভালো লাগে এবং তোমার জন্য মঙ্গলকর ; তুমি সেটা করতে থাকো। অন্যে কি বলে সেটা তোমার শোনার প্রয়োজন নেই।

কমেন্ট যোগ করুন

কমেন্ট করতে ক্লিক করুন